← ডাটা সেন্টারআমেরিকার ইমিগ্রেশন ডাটা · সরকারি সূত্র
ইন্টারভিউতে ভিসা দেয়নি? 221(g) মানে কী, জেনে নিন
221(g) চিঠি মানে চূড়ান্ত “না” নয়। এর মানে অফিসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কাগজ বা আরও যাচাই চান। কী করবেন, কত সময় লাগতে পারে, আর যে একটা সময়সীমা কখনো পার করা যাবে না — সব এখানে।
এক নজরে
221(g) মানে “এখনো না”: সেদিন অফিসার ভিসা অনুমোদন করতে পারেননি, কিন্তু বাকি কাগজ বা যাচাই শেষ হলে পরে অনুমোদন করতে পারেন।
চিঠিতে যা চাওয়া হয়েছে ঠিক সেটাই, যত দ্রুত সম্ভব, দূতাবাস যেভাবে বলেছে সেভাবে দিন। বেশি কাগজ দিলে লাভ নেই।
একমাত্র কঠিন সময়সীমা: কাগজ চাওয়া হলে আর রিফিউজালের ১ বছরের মধ্যে অফিসারের কাছে কিছু না পৌঁছালে কেস বন্ধ হয়ে যায়, সাথে অনুমোদিত I-140-ও বাতিল হয়। চাওয়া কাগজ জমা দিলে বছরটা আবার নতুন করে শুরু হয়, আর দূতাবাস নিজে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেসিং করার সময় এই হিসাব চলে না।
এর মানে কী
- 1221(g) ধারায় রিফিউজাল
আবেদনকারী এখনো পুরো যোগ্যতা দেখাতে না পারলে আমেরিকার আইন অফিসারকে “আপাতত” ভিসা না দেওয়ার সুযোগ দেয়। পররাষ্ট্র দপ্তর বলে, নতুন তথ্য পেলে বা আরও যাচাইয়ের পর অফিসার কেসটা আবার বিবেচনা করতে পারেন।
- 2আপনাকে একটা চিঠি দেওয়া হয়
অফিসার একটা 221(g) চিঠি দেন। তাতে লেখা থাকে কী বাকি (কোনো কাগজ, সংশোধিত ফর্ম, নতুন মেডিকেল) অথবা কেসটা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেসিংয়ে যাচ্ছে। চিঠিটা যত্নে রাখুন – এটাই আপনার নির্দেশনা।
- 3অনলাইন স্ট্যাটাসে “Refused” দেখায়
৩ মার্চ ২০২০ থেকে পররাষ্ট্র দপ্তরের স্ট্যাটাস সাইটে (ceac.state.gov) এসব কেসে “Refused” দেখায়। পররাষ্ট্র দপ্তর বলে এতে কেসের কিছু বদলায়নি – অফিসার সন্তুষ্ট হলে এটা “Issued” হয়ে যেতে পারে।
- 4আপনার পাসপোর্ট
দূতাবাস পাসপোর্ট রেখে দিতে পারে বা ফেরত দিতে পারে। ফেরত দিলে ভিসা তৈরি হলে পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হবে।
কাগজ চেয়েছে
- 1চিঠিটা লাইন ধরে পড়ুন
পরিবারের প্রত্যেকের জন্য চিঠিতে যা যা চাওয়া হয়েছে তার তালিকা করুন। কোনো শব্দ বুঝতে না পারলে GVS-কে জিজ্ঞেস করুন – ভুল অনুমানে মাসের পর মাস চলে যায়।
- 2ঠিক সেই কাগজটাই জোগাড় করুন
চিঠিতে যেমন বলা – মূল কপি বা সত্যায়িত কপি; ইংরেজিতে না হলে ইংরেজি অনুবাদসহ। কোনো কাগজ সত্যিই না থাকলে যে অফিস দেয় তাদের কাছ থেকে অফিসিয়াল “পাওয়া যায় না” চিঠি নিন।
- 3দূতাবাস যেভাবে বলেছে সেভাবে দিন
চিঠিতে লেখা পদ্ধতি মেনে চলুন। ঢাকায় দূতাবাস 221(g)-এর কাগজ আপনার বেছে নেওয়া ডকুমেন্ট পিক-আপ লোকেশনে জমা দিতে বলে – ডাকে নয়। চিঠিতে না বললে NVC বা USCIS-এ পাঠাবেন না। কপি আর রসিদ রেখে দিন।
- 4তারপর দূতাবাসের অপেক্ষা
যাচাইয়ের পর দূতাবাস পাসপোর্ট চাইবে, অথবা জানাবে আর কী বাকি। ভিসা হাতে পাওয়ার আগে টিকিট কাটবেন না।
অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেসিং
- 1বাড়তি যাচাই, কিছু পাঠাতে হয় না
অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেসিং মানে ইন্টারভিউর পর কেসটার আরও যাচাই লাগবে। চিঠিতে কিছু না চাইলে আপনার কিছু পাঠানোর নেই।
- 2নির্দিষ্ট সময় নেই
পররাষ্ট্র দপ্তর বলে সময় “প্রতিটি কেসের পরিস্থিতি অনুযায়ী আলাদা”। অনেক কেস কয়েক সপ্তাহে শেষ হয়, কিছু কয়েক মাস লাগে। কেউ নির্দিষ্ট তারিখের গ্যারান্টি দিতে পারে না।
- 3স্ট্যাটাস আর ইমেইল দেখুন
মাঝে মাঝে কেস নম্বর দিয়ে ceac.state.gov দেখুন, আর NVC-কে দেওয়া ইমেইল ও ফোন চালু রাখুন। ঢাকা দূতাবাস স্ট্যাটাস জানতে চাওয়ার আগে ৬০ দিন অপেক্ষা করতে বলে, তারপর শুধু চিঠিতে দেওয়া মাধ্যমে জিজ্ঞেস করুন – বারবার ইমেইল করলে দ্রুত হয় না।
- 4কখনো I-140 USCIS-এ ফেরত যায়
পিটিশনেই সমস্যা পেলে অফিসার সেটা আবার যাচাইয়ের জন্য USCIS-এ পাঠাতে পারেন। এতে অনেক সময় লাগতে পারে; USCIS-এর নোটিশ যায় নিয়োগকর্তার কাছে।
- 5অপেক্ষার মধ্যে মেয়াদ শেষ হতে পারে
মেডিকেল রিপোর্ট আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের মেয়াদ সীমিত। মেয়াদ শেষ হলে দূতাবাস নতুন করে চাইতে পারে – পাসপোর্টের মেয়াদও ঠিক রাখুন।
সময়সীমা
- 1রিফিউজালের দিন থেকে ১ বছর
কাগজ চাওয়া হলে আর ২২১(g) রিফিউজাল কাটানোর মতো প্রমাণ ১ বছরের মধ্যে অফিসারকে না দিলে আপনার ইমিগ্রান্ট ভিসার রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যায় (22 CFR 42.83)। চাওয়া কাগজ জমা দিলে বছরটা আবার নতুন করে শুরু হয়, আর কেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেসিংয়ে থাকলে পররাষ্ট্র দপ্তর তা বাতিল করে না (9 FAM 504.13)।
- 2কেস বন্ধ হলে I-140-ও বাতিল
রেজিস্ট্রেশন বাতিল হলে ইমিগ্রান্ট পিটিশনের অনুমোদন আপনা-আপনি বাতিল হয় (8 CFR 205.1)। নিয়োগকর্তাকে আবার শুরু থেকে করতে হবে – নতুন প্রায়োরিটি ডেটসহ।
- 3আবার খোলা: শুধু ২য় বছর শেষ হওয়ার আগে
রিফিউজালের পর দ্বিতীয় বছর শেষ হওয়ার আগে যদি দেখাতে পারেন দেরিটা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল – নিয়মে যেমন বলা আছে: গুরুতর অসুস্থতা বা অক্ষমতায় যাতায়াত সম্ভব হয়নি, অথবা দেশের সরকার যেতে দেয়নি – তবেই বাতিল কেস আবার চালু করা যায়। ব্যস্ততা বা দেরি করা এর মধ্যে পড়ে না।
- 4দূতাবাসের অপেক্ষা আলাদা বিষয়
আপনি সব জমা দিয়ে ফেললে আর দূতাবাস এখনো যাচাই করলে দেরিটা তাদের দিকের। সময়মতো জমা দেওয়ার প্রমাণ রেখে দিন।
এই ভুলগুলো করবেন না
- 1“দ্রুত করে দেব” বলে টাকা দেওয়া
কোনো এজেন্ট, উকিল বা কর্মকর্তা টাকা দিয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেসিং দ্রুত করাতে পারে না। এর জন্য যে টাকা চায় সে সৎ নয়।
- 2চাওয়ার চেয়ে বেশি কাগজ পাঠানো
বাড়তি কাগজে যাচাই ধীর হয়। শুধু যা চাওয়া হয়েছে তা দিন – আর প্রতিটা কাগজ কোন কেস নম্বর ও কোন ব্যক্তির, তা পরিষ্কার লিখে দিন।
- 3আগের কথা বদলে ফেলা
উত্তর আর কাগজ DS-260-এ যা লিখেছেন তার সাথে মিলতে হবে। DS-260-এ কিছু ভুল থাকলে আগে GVS-কে জানান, যাতে ঠিকভাবে সংশোধন করা যায়।
- 4ঠিকানা বা ইমেইল বন্ধ হয়ে যাওয়া
দূতাবাস আর NVC-এর বার্তা ইমেইলে আসে। ইনবক্স ভরা থাকলে বা ফোন নম্বর বদলালে পাসপোর্ট চাওয়ার বার্তা মিস হতে পারে।
- 5আগেভাগে চাকরি ছাড়া বা যাত্রা
পাসপোর্টে ভিসা প্রিন্ট হওয়ার আগে চাকরি ছাড়বেন না, সম্পত্তি বিক্রি করবেন না, টিকিটও কাটবেন না।
NVC ও ঢাকা ইন্টারভিউ গাইড →পরিবারের কাগজপত্রের চেকলিস্ট →ceac.state.gov ↗
আসল আমেরিকান নিয়োগকর্তার সাথে EB-3 জব চান?
GVS কোরিয়া ও বাংলাদেশের কর্মীদের PERM, I-140 থেকে ভিসা ইন্টারভিউ পর্যন্ত সাহায্য করে। প্রতি রবিবার সিউলে ফ্রি সেমিনার।
সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর – Administrative Processing Information; “CEAC Case Status Change” নোটিশ (৩ মার্চ ২০২০); 22 CFR 42.83 (রেজিস্ট্রেশন বাতিল); 8 CFR 205.1 (স্বয়ংক্রিয় বাতিল); 9 FAM 504 (504.13 সহ); ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ইমিগ্রান্ট ভিসা নির্দেশনা। এটা সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয় – দূতাবাসের চিঠিই সবার আগে।
